November 15, 2018

সাম্যবাদী

"গাহি সাম্যের গান
যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান,
যেখানে মিশেছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রিশ্চান।"

বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম 'সাম্যবাদী' (১৯২৫) কবিতাটিতে হৃদয়-ধর্মকে প্রাধান্য দিয়ে সাম্যের গান গেয়ে মানবসমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে আগ্রহী।কবিতাটিতে কবির বৈষম্যহীন অসাম্প্রদায়িক মানবসমাজ গঠনের প্রত্যাশা উচ্চারিত হয়েছে। তাঁরমতে ধর্মকে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে প্রয়োজন প্রগাঢ় মানবতাবোধ। তাই সাম্প্রদায়িকতার ব্যবধান দূর করতে মানবিকতাবোধসম্পন্ন হৃদয় নামক তীর্থক্ষেত্রে ‘মানুষ’ পরিচয়ে সকলকে একীভূত হতে হবে।

মানব হৃদয় অনন্ত, অসীম জ্ঞানভাণ্ডারের উৎসমূল। সকল শাস্ত্র, ধর্ম, যুগাতোর এবং উপাসনালয় মানুষের অন্তরের মাঝেই অবস্থিত। আত্মজ্ঞানী বলে সকল শাস্ত্র নিজের অন্তরাত্মার মধ্যেই খুঁজে পাওয়া যাবে।

পুঁথি তথা শাস্ত্রগ্রন্থ বা কেতাব মৃতবট্‌ কঙ্কালস্বরূপ। নিজের হৃদয়ে সত্যবোধ না থাকলে সেখানে সৃষ্টিকর্তাকে খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়। ধর্মগ্রন্থের মূলমন্ত্র যে মানবতাবোধ, তা আত্মস্থ না থাকলে তা পাঠ পণ্ডশ্রম হয়। বিশ্বব্যাপী এক মানবজাতির চেতনা যাঁরা মনেপ্রাণে হৃদয়ে লালন করেন, কবি হৃদয়ের সেই প্রশস্ত ভূমিতে সাম্যের গান গাইতে চেয়েছেন।

তাইতো তিনি বলেছেন -
"এই হৃদয়ের চেয়ে বড়ো কোনো মন্দির-কাবা নাই।"

লেখায় - হারুন স্যার, সরকারী বিজ্ঞান কলেজ