https://www.prothomalo.com/education/article/1560436/%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%A8-%E0%A7%A7%E0%A7%A7-%E0%A6%AA%E0%A6%A6%E0%A6%95

গত ২৮ সেপ্টেম্বর ছিল এশিয়া কাপ ক্রিকেটের ফাইনাল। দুর্দান্ত লড়াইয়ের পর বাংলাদেশ ক্রিকেট দল যখন হেরে গেল, অনেকের মতো মন খারাপ হয়েছিল জয়দীপ সাহা ও তাঁর বন্ধুদেরও। সে রাতেই আরেকটি মন ভালো করা খবরে চমকে যান জয়দীপরা। ইরানি জ্যামিতি অলিম্পিয়াডের পঞ্চম আসর থেকে বাংলাদেশ একটি স্বর্ণ, ছয়টি রৌপ্য ও তিনটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে। ২৮ সেপ্টেম্বর আয়োজক কর্তৃপক্ষ তাদের ওয়েবসাইটে চমকে যাওয়ার মতো এ ফলাফল ঘোষণা করে। খবর পেয়ে ক্রিকেটে হারার দুঃখ কিছুটা হলেও ভুলে গিয়েছিলেন জয়দীপ ও তাঁর বন্ধুরা।

ইরানি জ্যামিতি অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশের পক্ষে উন্মুক্ত বিভাগে পাঁচটি সমস্যার নিখুঁত সমাধান করেন জয়দীপ সাহা। এ বছর উচ্চমাধ্যমিক পেরিয়েছেন তিনি। ৪০ নম্বরের মধ্যে ৪০ পেয়ে প্রথম স্থান আমাদের জয়দীপের দখলে। এ বছর রোমানিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডেও তিনি ব্রোঞ্জ পদক পেয়েছিলেন। অলিম্পিয়াড সম্পর্কে জয়দীপের বক্তব্য, ‘এবারের অলিম্পিয়াডের পরীক্ষা বেশ কঠিন ছিল। প্রথম হব ভাবিনি। আন্তর্জাতিক গণিত অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের প্রস্তুতিই এই প্রতিযোগিতাতেও কাজে লেগেছে।’ জানা গেল, জ্যামিতি অলিম্পিয়াড হলেও এই পরীক্ষায় শুধু জ্যামিতিনির্ভর সমস্যার উত্তর মেলানোকেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না, সৃজনশীল উপায়ে কীভাবে সমস্যাকে বিস্তৃত করে সমাধান করা যায়, সে ব্যাপারেও উৎসাহ দেওয়া হয়। মুখস্থ কোনো সূত্র কিংবা উপপাদ্য দিয়ে অলিম্পিয়াডের সমস্যা সমাধান করা কঠিন কাজ। যুক্তি আর জ্যামিতির মৌলিক ভিত্তিকে উপজীব্য করেই সমস্যা সমাধান করতে হয়। জয়দীপ এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত। পদক জয় তাঁর অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে বলে জানালেন। ‘অলিম্পিয়াডে আমার মূল লক্ষ্যই ছিল সব সমস্যা বুঝে বুঝে সমাধানের চেষ্টা করা। সেখানে সব সমাধান করে যে সবার আগে চলে আসব, এটা কল্পনার বাইরে ছিল। নিয়মিত প্রস্তুতির মধ্যে ছিলাম বলেই ফলাফল ভালো হয়েছে,’ বললেন তিনি।

গত ৬ সেপ্টেম্বরের প্রথম আলোর কারওয়ান বাজারের কার্যালয়ের প্রশিক্ষণ কক্ষে ইরানি জ্যামিতি অলিম্পিয়াডের পঞ্চম আসরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এবারের অলিম্পিয়াডে বাংলাদেশসহ মোট ৫৬টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেয়। দেশীয় আয়োজকদের তত্ত্বাবধানে নিজ দেশে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় শিক্ষার্থীরা। চার ঘণ্টায় পাঁচটি জ্যামিতিক সমস্যার সমাধান করতে হয় প্রতিযোগীদের। বিশ্বব্যাপী স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যামিতিক দক্ষতা বাড়ানোর জন্য ২০১৪ সালে ইরানের উদ্যোগে এই আন্তর্জাতিক অলিম্পিয়াডের শুরু। বাংলাদেশ গণিত অলিম্পিয়াড কমিটির উদ্যোগে ডাচ– বাংলা ব্যাংক ও প্রথম আলোর সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা ২০১৬ সাল থেকে ইরানি জ্যামিতি অলিম্পিয়াডে অংশ নিচ্ছে। পরীক্ষা শেষে নিয়মানুযায়ী বাংলাদেশি মূল্যায়নকারীদের মূল্যায়নের পর এসব উত্তরপত্র ইরানে পাঠানো হয়। পরে তাদের মূল্যায়ন শেষে প্রকাশিত হয় চূড়ান্ত ফলাফল। প্রতিযোগিতায় উন্মুক্ত ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশের পরেই আছে ভিয়েতনাম। ভিয়েতনামের শিক্ষার্থী ট্রুওং মানহ তুন ও দো জুয়ান লং প্রতিযোগিতায় দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান পেয়েছেন। ট্রুওংয়ের প্রাপ্ত নম্বর ৩৭ ও লংয়ের নম্বর ৩৪।

উন্মুক্ত ক্যাটাগরিতে ক্যাটাগরিতে এইচএসসি উত্তীর্ণ তামজিদ মোরশেদ (২৪ নম্বর পেয়ে ১৩তম) ও মেহেদী হাসান (২৩ নম্বর পেয়ে ১৮তম) পেয়েছেন ব্রোঞ্জ পদক। অ্যাডভান্স ক্যাটাগরিতে রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজের আহমেদ ইতিহাদ (২৭ নম্বর পেয়ে ৩২তম), নটর ডেম কলেজের সাদ বিন কুদ্দুস (২৬ নম্বর পেয়ে ৩৯তম), রাইয়ান জামিল (২৬ নম্বর পেয়ে ৩৯তম) ও মাশরুর হাসান ভূঁইয়া (২৫ নম্বর পেয়ে ৪৮তম) এবং এসওএস হারম্যান মেইনার কলেজের আহসান আল মাহির লাজিম (২৫ নম্বর পেয়ে ৪৮তম) রৌপ্য পদক জিতেছে। এলিমেন্টারি ক্যাটাগরিতে রৌপ্য পদক পেয়েছে রাজউক উত্তরা মডেল স্কুল ও কলেজের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইপ্সিতা জাহান (২৪ নম্বর পেয়ে ৩৫তম)। সিরাজগঞ্জ স্কলার স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী নবনীতা পাল (১৬ নম্বর পেয়ে ৭২তম) পেয়েছে ব্রোঞ্জ পদক।