https://samakal.com/technology/article/19021177/%E0%A6%9A%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A7%87-%E0%A6%85%E0%A6%AD%E0%A7%82%E0%A6%A4%E0%A6%AA%E0%A7%82%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AC-%E0%A6%9C%E0%A7%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%82%E0%A6%B2%E0%A6%BE%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6%E0%A7%80-%E0%A6%A4%E0%A6%B0%E0%A7%81%E0%A6%A3%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B0?fbclid=IwAR0EpjIamCOa1Ks–LRjBeVfqvOurefJlQevdIK9adRv9Vf_CpRip2za7mU

 

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা আয়োজিত স্পেস অ্যাপস চ্যালেঞ্জে বিজয়ী হওয়ার দুর্লভ গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশি উদ্ভাবক দল ‘অলিক’। বাংলাদেশের স্থানীয় সময় শনিবার প্রথম প্রহরে তাদের এই অভূতপূর্ব বিজয়ের ঘোষণা দেয় যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার সমকালকে জানান, বেস্ট ইউজ অব ডাটা ক্যাটেগরিতে বাংলাদেশের ‘অলিক’ দলের প্রকল্প ‘লুনার ভিআর’ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ১ হাজার ৩৯৫টি দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে শীর্ষ ২৫ দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। তিনি বিজয়ী তরুণদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত দশ বছরে তথ্য প্রযুক্তি খাতে তরুণদের উদ্ভবানী চিন্তার বিকাশে যে অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তার বাস্তব ফলটিই হচ্ছে আজকের এই অভূতপূর্ব বিজয়। তিনি বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে। এর ফলে ভবিষ্যতে বাংলাদেশী কিশোর-তরুণরা বিশ্বজয়ের আরও অনেক সুসংবাদ নিয়ে আসবে।

সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, ‘লুনার ভিআর’ প্রকল্পটি মূলত একটি ভার্চুয়াল রিয়েলিটি অ্যাপ্লিকেশন যার সাহায্যে ব্যবহারকারীরা পৃথিবীতে বসেই চাঁদে ভ্রমণের রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা পাবেন। চাঁদে বসে সূর্য গ্রহন দেখার অভূতপূর্ব কল্পনার জগতে নিজেকে হারিয়ে ফেলতেও পারবেন। নাসার সরবরাহ করা তথ্য ভাণ্ডার থেকে থ্রিডি মডেল ও উপযোগী তথ্য নিয়ে নাসা অ্যাপোলো-১১ মিশনের ল্যান্ডিং এরিয়া ভ্রমণ, চাঁদে বসে সূর্যগ্রহন দেখা এবং চাঁদকে একটি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে আবর্তন করা এই তিনটি ভিন্ন পরিবেশকে ভার্চুয়ালভাবে তৈরি করেছে টিম অলিক।

দলটির প্রধান আবু সাবিক মাহদী সমকালকে বলেন, তাদের এই অ্যাপটি মূলত নাসার তথ্য ব্যবহার করে ভিআর বা ভার্চুয়াল রিয়ালিটি উপাদানে তৈরি। এতে অ্যাপেলো-১১ মিশনের চাঁদে অবতরণের সময়, আবহ এবং স্থানের একেবাবে হুবহু ভার্চুয়াল রিয়ালিটি সংযোজন করা হয়েছে। ফলে পৃথিবীর যেকোনো মানুষ মহাকাশ যানে না চড়েও এই অ্যাপটি ব্যবহার করে যখন খুশী ঘুরে আসতে পরবেন চাঁদ থেকে। এর পাশাপাশি চাঁদে ভ্রমণে গিয়ে চাঁদ আর সূর্যের মাঝখানে পৃথিবী এসে গেলে সূর্যগ্রহনের রূপকল্প কেমন হতে পারে তাও উপভোগ করতে পারবেন।

তিনি জানান, শুক্রবার রাত ২টায় তার কাছে নাসার প্রতিযোগিতায় ‘টিম অলিকে’র বিজয়ী হওয়ার খবর আসে। তিনি বলেন, এর আগে নাসা তাদের কাছে চাঁদে অভিযান সংক্রান্ত তথ্য দিয়ে এ সংক্রান্ত অ্যাপ তৈরির ব্যাপারে সমাধান চায়। এর ভিত্তিতেই তারা অ্যাপ তৈরির কাজে হাত দেন। ‘ভিআর লুনার’ অ্যাপটি বর্তমানে গুগল প্লে স্টোরেও পাওয়া যাচ্ছে। ভাল মানের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপটি ডাউনলোড করে একটি উন্নত হেডসেটের মাধ্যমে এই অ্যাপটি থেকে চাঁদে ভ্রমণের অভিজ্ঞতা পাবেন।

আবু সাদিক মাহদী জানান, এ দলে একজন মেনটরসহ মোট পাঁচ জন সদস্য ছিলেন। তিনসহ দলের অপর দুই সদস্য কাজী মাইনুল হাসান এবং সাব্বির হাসান হযরত শাহজালাল আর্ন্তজাতিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। অপর সদস্য এস এম রাফি আদনান পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। দলের মেন্টর বিশ্বপ্রিয় চক্রবর্তী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সহকারি অধ্যাপক।