June 2, 2019

দৌড়া বাঘ আইলো

এই বিশ্বকাপে যখন ধরে নেয়াই হচ্ছিলো রানপ্রসবা ইংলিশ পিচে তিনশ-সাড়ে তিনশর নিচে রান না করলে কোন দলই নিরাপদ না,প্রথম কয়েকটি ম্যাচ ঠিক তার উল্টো বার্তাই দিলো।প্রথম ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের করা ৩১১ রানের জবাবে সাউথ আফ্রিকা অলআউট হয়ে গিয়েছিলো ২০৭ রানে।আর এশিয়ার দলগুলোর অবস্থা তো তথৈবচ! দ্বিতীয় ম্যাচে পাকিস্তান ক্যারিবিয়ান পেস তোপে গুটিয়ে গেছে ১০৫ রানে আর শ্রীলংকা বোল্ট-সাউদিদের সামনে দিতে পেরেছে১৩৭রানের লক্ষ্য!তুলনামূলক অবস্থা ভালো ছিল নবীন আফগানিস্তানের,তারা নিজেদের প্রথম ম্যাচে তুলতে পেরেছে ২০৭ রান। আজ বাংলাদেশ তাই যখন টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামলো,চরম আশাবাদী দর্শকেরও বুক একটু দুরুদুরু না করে পারে নি।কিন্তু শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে সৌম্য যেন একের পর এক বাউন্ডারির সাথে গ্যালারিতে আছরে ফেললেন সব আশঙ্কা।আর পঞ্চপান্ডবের মধ্যে মুশফিক,সাকিব আর মাহমুদুল্লাহর পরিণত ব্যাটিং দলকে নিয়ে গেলো ৩৩০ রানের বন্দরে!মুশফিক আর সাকিবের ব্যাটিংয়ের সময় একবারও মনে হয়নি তাঁরা আউট হতে পারেন,শুরুতে ইনিংস মেরামত করে পরে যথাসময়ে চড়াও হয়ে বুঝিয়ে দিলেন-অভিজ্ঞতা কেনা যায় না! আর সৌম্য তো যতক্ষণ ব্যাটিং করেছেন সামনে রাবাদাদের মতো ভয়ঙ্কর পেসারদেরও মনে হয়েছে নিরীহ! অথচ এই সাউথ আফ্রিকার পেস বোলিংয়ের কাছে যুগে যুগে নতশির হতে হয়েছে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের।মাখায়া এনটিনি,শন পোলক থেকে শুরু করে এলবি মরকেল,কাগিসো রাবাদাদের সামনে তাসের ঘরের মতো ভেঙ্গে পড়েছে টাইগারদের ইনিংস।আজ শুধু সৌম্যই-সাকিব –মুশফিকই নন,শেষের দিকে মাহমুদুল্লাহ আর মোসাদ্দেকের তান্ডব বারবার মনে করিয়ে দিল,এ বাংলাদেশ নতুন বাংলাদেশ,এ বাংলাদেশ আত্মবিশ্বাসী আর প্রত্যয়ী বাংলাদেশ! বোলিংয়েও সেই পজিটিভিটির ছাপ রেখেছেন সাকিব-মিরাজরা।উইকেট নেয়ার পাশাপাশি বুদ্ধিদীপ্ত বোলিংয়ে আটকে রেখেছেন দক্ষিণ আফ্রিকার রানের চাকা। তবে এই ম্যাচের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তির নাম মুস্তাফিজের স্বরূপে ফেরা।সেই ভয়ঙ্কর কাটার আবার ফিরেছে,সহজেই আবার বিভ্রান্ত করছেন প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানকে। টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচেই তাই দারুণ দলীয় প্রয়াসের এই জয় আমাদের বুকে দারুণ কিছুর আশা জাগায়!২০১৫ এর কোয়ার্টার ফাইনাল আমাদের বুকে এই সাহস জুগিয়ে গেছে,বড় আসরে আমরা এখন দুর্ঘটনা ঘটাতে আসি না,আমরা আসি আমাদের সেরাটা দিয়ে প্রাপ্য জয় ছিনিয়ে নেয়ার জন্যে! তাই হয়তো সেইদিন খুব বেশী দূরে নয়,রমিজ রাজার মতো ধারাভাষ্যকাররা,আমাদের জয়কে যেদিন আর আপসেট বলতে পারবেন না!যেই গ্রায়েম স্মিথ নিজে অধিনায়ক হিসেবে একের পর এক সিরিজে লজ্জাজনক হারের যন্ত্রণা দিয়েছেন,যাকে টানা দেড়দিন বোলিং করেও আউট করতে না পারার গ্লানি মেনে নিতে হয়েছে একসময়,সেই গ্রায়েম স্মিথ যখন ধারাভাষ্যকার হিসেবে এই পরিণত বাংলাদেশের টুপিখোলা প্রশংসা করেন,তখন সেই দর্শকের তো আনন্দে আত্মহারা হবারই কথা,যিনি এই দুই সময়েরই নীরব সাক্ষী হয়ে রইলেন!  এবার তাই সেমিফাইনাল খেলার স্বপ্ন দূরাশা বলে মনে হয় না! মনে হয় শ্রীলংকা,পাকিস্তান,আফগানিস্তানের মতো দলকে খুব সহজেই হারিয়ে দেয়া সম্ভব।নিউজিল্যান্ড দলটা হোকনা খুবই দুরন্ত ফর্মে আছে,ওদের বহুবার হারিয়েছে তো আমাদের এই দলটাই,আতাহার আলী খানের সেই বিখ্যাত বাংলাওয়াশ টার্মটা তো এদের দিয়েই শুরু! বাংলাদেশী ক্রিকেট সমর্থকদের ফেসবুকভিত্তিক একটা গ্রুপ আছে বহুদিন ধরে,চমকপ্রদ একটা নাম “দৌড়া বাঘ আইলো”!সেদিন আসতে হয়তো খুব বেশি নেই,উন্নত মম শির টাইগারদের ভয়ে দৌড়ের উপরে থাকতে হবে সব ক্রিকেট পরাশক্তিদেরও! দেশের বাইরেও সমীহ জাগানোর দল হয়ে ওঠার এই হোক না শুরু!হোক না সেটা মাশরাফি বিন মুর্তজার শেষ বিশ্বকাপেই!যে মাশরাফি বারবার ফিনিক্স পাখির মতো জেগে উঠে দলের জন্যে শেষ বিন্দু দিয়ে লড়াই করানো শিখিয়েছেন,সেই মাশরাফিকে দারুণ কিছু উপহার দিক না টাইগাররা! লিখেছেন - Abdullah Sadman This post is powered by Bangladesh Cricket : The Tigers #Tigers #CWC2019 #Day8 #100DaysOfPositivity#SpreadPositivity #PositiveBangladesh