June 23, 2019

আমাদের মাদার তেরেসা

গ্রামের লোকে তাকে ‘বাংলার নানী’ বলে ডাকেন। একজন কমিক বইয়ের সুপারহিরোর মতোই তার এই ভালোবাসার ডাকনাম। আর কাল্পনিক সেসব সুপারহিরোদের মতো তারও আছে নিজস্ব কিছু সরঞ্জাম। একটি পুরানো লোহার সাইকেল, একটি কালো ব্যাগ ভর্তি জরুরি জিনিসপত্র আর ইস্পাত দৃঢ় মনের জোর। তাহলে আমাদের সত্যিকারের এই সুপারহিরো আসলে কি করে বেড়ান আর তার নাম পরিচয়টাই বা কি একটু জেনে নেয়া যাক। জহিরুন বেওয়া তার নাম। বয়স তার ৯০ বছর। প্রতিদিন সকালে নিজের সাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন আশেপাশের গ্রাম অঞ্চলে। যেখানেই অসুস্থ কেউ ডাক পাঠাবে সেখানেই নিজের ব্যাগ নিয়ে যথারীতি হাজির হবেন জহিরুল। না জহিরুন না ;বাংলার নানী’। ৪৬ বছরে ধরে নিরন্তন গ্রামের দরিদ্র মানুষ গুলোকে এই সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। বয়স এখন অনেক। বাড়ির লোকে বলে বাসায় থাকো এবার। তবে কে শুনে কার কথা। বাংলার নানীর এই অসাধারণ সেবাকাজের গল্প তারই মুখে এরকমটা। “শুরুতে হেঁটে হেঁটে মানুষের বাড়ী যাইতাম। পরে ১৯৯২ সালে বারোশো টাকা দিয়া এই পুরানোসাইকেলটা কিনি।এই সাইকেলে রোজ ১৫-২০ কিমি যাতায়াত করি।“  এই তার গল্পের অংশ। ১৯৭৩ সালে নার্সের চাকরি দিয়ে শুরু যার যাত্রা। এরপর ট্রেনিং নিয়ে শিখেছেন জ্বর, সর্দি-কাশি, সুস্থ থাকার নানা কৌশল। আর শিখেই থেমে থাকেন নি। নিজের সামর্থ্যের সবটা দিয়ে নেমে পড়েছেন গ্রামের দরিদ্র মানুষ গুলোর সেবায়। দেশের অধিকাংশ স্বাস্থ্য সেবী কাজ করে থাকেন শহুরে পরিবেশে। অথচ, স্বাস্থ্য সেবার প্রয়োজন এমন ৭০% মানুষের বাস গ্রামাঞ্চলে। নিজের আশেপাশের মানুষ গুলোকে তাই যতটা সম্ভব সেবা দিয়ে আগলে রাখেন তিনি। দিনে ১০-২০ জন রোগীর বাসায় যাতায়াত তার রোজকার শিডিউল। ঘুম থেকে উঠেন সেই ফজরের সময়। চারটা চিড়া ভেজা পানি মুখে দেন। তারপর ৮ থেকে ১০ টার মধ্যে নিজের একান্ত সঙ্গী বাইসাইকেল নিয়ে বেড়িয়ে পড়েন নিজের কাজে।  জহিরুন ভালোবাসেন তার কাজ।আর একইভাবে ভালোবাসা পান তার গ্রামের মানুষ গুলোর। অক্লান্ত আর ভীষন পরিশ্রমী এই আদর্শ, উজ্জীবনী একজন চলন্ত হাসপাতাল এই ভালোবাসার জোরেই আরো চালিয়ে যেতে চান এই কাজ। “ আর গ্রামের মানুষ আরে খুব ভালোবাসে,বাড়ি বাড়ি ঢুকি, মানুষেরে ওষুধ পাতি দেই, টাকা পয়সা চাই না।“ একজন স্বার্থহীন, পরোপকারী মানুষের মুখে অবলীলায় তার উপকারের গল্প শুনে আমরা বিস্মিত হই, অবাক লাগে এই ভেবে যে এমন মানুষ কিভাবে জনশ্রুতি, প্রচারের আড়ালে থেকে বছরের পর বছর অক্লান্ত ভাবে করে গেছেন এই সেবার কাজ। জহিরুন পৃথিবীর মানুষের কাছে প্রত্যাশা করেন সুস্থ ভাবে থাকার, একে অপরের খেদমত করার। আর নিজেও চালিয়ে যেতে চান তার এই চলন্ত সেবার যাত্রা। শুধু তার গ্রাম নয়, সমস্ত পৃথিবীর মানুষ যেনো একদিন তাকে নানী ডাকে। কি নির্মল আর সুন্দর একটা স্বপ্ন, তাই না ? আমরা Positive Bangladesh ‘বাংলার নানীর’ এই অবস্মরনীয় সেবাকে আমাদের চলার পথে বিরাট অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখি। তার এই নিঃস্বার্থ আর অক্লান্ত পরিশ্রম আমাদের তাগিদ দেয় আমাদের লক্ষ্যের পথে আরো এগিয়ে যাবার।  ছবি - The Daily Star This post is powered by ARTillery #বাংলারনানী #Day15 #100DaysOfPositivity#SpreadPositivity #PositiveBangladesh