June 23, 2019

ঈদ

  গাল চওড়া করে দেয়া একটি শব্দ। শব্দটির উচ্চারণের সাথে মুখভর্তি হাসি আর প্রানবন্ত উচ্ছ্বাসের এক গভীর সংস্পর্শ আছে। তাই খুব সহজেই ইদ না বলে আমরা যতটা সম্ভব টেনে, বড় করে নিজেদের ভিতরের সবটুকু আনন্দকে একত্র করে উৎসাহের আতিশয্য ও জোয়ারে নিজ থেকেই বলি ইইইইইইইইদ বা ঈদ। বছরে দুটো ঈদ আছে আমাদের জীবনে। একটি ঈদ যেমন বয়ে আনে ত্যাগের মহিমা অন্যটি বা প্রথমটি নিয়ে আসে একমাস সিয়াম সাধনার পুরস্কারস্বরুপ অঢেল আনন্দ ও রহমত। আমরা যারা এখন একটু বড়, একটু বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় ক্লাসে পড়ছি, যারা গুনে গুঞে অনন্ত জীবনে ২০/২২ টা ঈদের স্মৃতি হাতড়াতে পারি। আমরা জানি, প্রতিটি ঈদ আমাদের কাছে কতটুকু আনন্দের আর কতটুকু উজ্জ্বল স্মৃতিময়। ঈদ মানে তাই বারবার অনেক আনন্দের মাঝে একঝাক শৈশব খুলে দেখার মতো।
তবে ঈদ যে আনন্দ বয়ে আনে আমাদের ঘরে ঘরে, আমাদের পাড়ায় পারায়, গ্রাম আর শহরে নিজের মানুষদের সাথে সেমাই আর পোলাও কোর্মা খাবার ফাঁকে ফাঁকে, তার মাহাত্ম শুধু নিছক নয়। সারা বছর ধরে প্রতিনিয়ত, প্রতিদিন আমরা যে শোষন বিহীন, সহিষ্ণু ও অসাম্প্রদায়িক সমাজের জন্য রাস্তায়, মিছিলে, সোশ্যাল মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের আড্ডায় লড়াই করি তার একটি অতি বাস্তব চিত্রায়ন আমরা দেখতে পাই পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন। এদিন নিজেদের পোশাক, ভালো খাবার ও আড়ম্বরের আয়েশে আমরা কিন্তু জিজ্ঞেস করতে ভুলে যাই না আমাদের বাসার কাজের মহিলাটির ঘরেও ভালো খাবার হয়েছে কিনা, এদিন বাড়ির দারোয়ান, গাড়ির ড্রাইভার কারো কথা আমরা ভুলি না, সবাইকে নিয়ে নিজেদের আয়োজন উতযাপন করি। ঈদের দিন ঘুরতে গেলে রিকসাওয়ালার সাথে মন কষাকষি হয় না। “নেক একদিন একটু বাড়তি ভাড়া, ঈদ ইতো।“ এদিন আমরা পাড়া মহল্লার সবার সাথে কুশলাদি করি, যেই বয়স্ক খিটখিটে আংকেলকে সারা বছরে এড়িয়ে যাই এদিন তার সাথেও পথে দেখা হলে দাঁড়িয়ে হাত মেলাই, হেসে কথা বলি, সালাম দিই। ঈদ কি দারুন ভাবে বছরে একদিন আমাদের অহিংস আর আনন্দপ্রিয় করে দেয়। সবাইকে নিয়ে ভাবি, সবার সাথে কথা বলি, অনেক পুরানো বন্ধুকে খুঁজে বের করি, যার সাথে তুমুল ঝগড়া, মন কষাকষি তার সাথে এই একদিন সব ভুলে কিছুক্ষন আড্ডা দিতে মনে খচমচানী লাগে না। এমন এক বাংলাদেশের কথাইতো আমরা ভাবি, এমন বাংলাদেশের স্বপ্নই আমরা লালন করি। শুধু বাংলাদেশ কেনো এমন একটা আস্ত পৃথিবীর স্বপ্নে আমরা বিভোর হই। যদি এমন হতো, তাহলে বছরের প্রতিটি দিন হতো ঈদের দিন। প্রতিটি দিন হতো ক্লান্তিহীন স্মৃতিময়। পজিটিভ বাংলাদেশ দীর্ঘ এক মাসের সিয়াম সাধনা আমাদের যে সংযম, সহিষ্ণুতা আর শান্তির বার্তা দিয়ে গিয়েছে তাকে ঈদ আনন্দের সাথে সাথে হারিয়ে ফেলতে নারাজ। আমরা চাই পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতরের এই শিক্ষা আমরা ধরে রাখবো ও আমাদের সমাজে এর বিস্তারে কাজ করে যাবো। আপনিও আছেন তো আমাদের এই মিশনে ? মিশনটা যেনো কি ? “প্রতিদিন হোক ঈদের মতো সুন্দর”- এই তো মিশন। This post is powered by Tasin Zulkernain Photography #Eid #Day11 #100DaysOfPositivity #SpreadPositivity #PositiveBangladesh