June 23, 2019

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে অনেকেরই জানা কিছু পুরোনো তথ্য নতুন করে…

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযানের মধ্যে অনেকেরই জানা কিছু পুরোনো তথ্য নতুন করে... (দল খারাপ করলেই এসব কথার তুবড়ি ছোটানো হতে পারে): **২০১৬-১৭ আর্থিক বছরের হিসাব অনুযায়ী বিসিবির ৫০১ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট আছে। বিসিবির সম্পদের পরিমাণ তখনই ছিল প্রায় ৬৬৮ কোটি টাকা। সবই নিজস্ব আয়ে। এই তথ্যে শুরু করার কারণ, অসংখ্যবার বলা কথাটি আবার বলছি, আপনার-আমার ট্যাক্সের টাকায় ক্রিকেটারদের বেতন হয় না। বিসিবি নিজস্ব আয়ে চলে, সেখান থেকেই বেতন দেয়। সেই আয় এতটাই যে, সব খরচের পরও ৫০০ কোটি টাকার ফিক্সড ডিপোজিট করা যায়! বড় অঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট থেকে লাভের অঙ্কও বড় থাকে। বিসিবির আয়। বিসিবির আয়ের একটা বড় অংশ আসে আইসিসির তহবিল থেকে। বর্তমান অর্থ চক্রে আইসিসি থেকে বাংলাদেশ পাচ্ছে ১২ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এছাড়াও নানা ইভেন্টে টুকটাক অর্থ আসে। আরেকটা বড় আয় স্পন্সরশীপ থেকে। ব্রডকাস্ট ডিল আছে, ডিজিটাল রাইটস আছে। টিম স্পন্সর, জার্সি স্পন্সর, বিভিন্ন সিরিজ-টুর্নামেন্টের স্পন্সর, স্টেডিয়ামের ভেতরে, দেয়ালে, গ্যালারিতে, সাইটস্ক্রিণের স্পন্সর (বেশির ভাগ সময় সব একসঙ্গেই থাকে)। আরও কী কী আছে, সব জানিও না। **বোর্ডের বেতন-ভাতার বাইরেও ক্রিকেটারদের আয় আছে এন্ডোর্সমেন্ট থেকে। শীর্ষ ক্রিকেটারদের পণ্যদূত করতে চাইলে এখন যে টাকা দিতে হয়, দেশের অন্য অঙ্গনের শীর্ষ তারকাদের স্পন্সরশীপের টাকার চেয়ে তা কয়েক গুণ বেশি। তার পরও তারা প্রচুর প্রস্তাব পাচ্ছে, অনেকগেুলোই করছে। অন্যদের ছোট করার জন্য নয়, শীর্ষ ক্রিকেটারদের জনপ্রিয়তা বোঝাতে বললাম। তো আমাদের ট্যাক্সের টাকায় ক্রিকেটারদের বেতন হয় না। তারা বরং ট্যাক্স দেয়। মাশরাফি, সাকিব, তামিম প্রতিবছর বড় অঙ্কের ট্যাক্স দিয়ে সরকার থেকে ট্যাক্স কার্ড পায়। ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ নেই, বোর্ড থেকেই ট্যাক্স কেটে রাখা হয়। স্পন্সরশীপের ডিলগুলোর কপিও বোর্ডে জমা দিতে হয়। বিশ্বকাপে দেশের ফল ভালো বা খারাপ যাই হোক, এই তথ্য সবার একটু মনে রাখা জরুরী যে ওরা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় চলে না। **বলতে পারেন, সরকার অনেক সময় তাদেরকে বোনাস দেয়, অর্থ বা সম্পদ। কিছুটা সত্যি। অনেক সময় নয়, মাঝেমধ্যে। তবে যেভাবে ঢালাও ভাবে বলতে শুনি যে জিতলেই গাড়ী-বাড়ী-জমি-ফ্ল্যাট দেওয়া হয়, ততটা কখনোই নয়। ১৯৯৯ বিশ্বকাপ থেকে এই বিশ্বকাপ পর্যন্ত ২০ বছরে ধরলে, সরকার থেকে পুরষ্কার ৫-৬ বারও দিয়েছে কিনা সন্দেহ। অনেক সময়, বিসিবির বোনাসের অর্থই সরকার প্রধানের হাত দিয়ে দেওয়া হয়। বিসিবির বোনাস ক্রিকেটারদের চুক্তিতেই আছে। একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান তার কর্মীদের দিতেই পারে। সরকার থেকে যে পুরষ্কার দেওয়া হয়, তার মোট অঙ্কটা জানানো হয়। সেটা দেখে অনেকের চোখ ছানাবড়া হয়ে যায়। ১ কোটি টাকা, ২ কোটি টাকা! অথচ সেটা দেওয়া হয় দলের সব ক্রিকেটার, কোচিং স্টাফ, ম্যানেজমেন্ট, সব মিলিয়ে। দেখা যায়, ২০-২৫ জনের টিম হয়ে গেছে। তাহলে সবাই কত করে পায়? সেটা কারও মনে থাকে না। ফ্ল্যাট-জমি বাংলাদেশের ইতিহাসেই হয়তো ২-১ বার দেওয়া হয়েছে। তাও সবাই পায়নি। তার পরও চাইলে বলতে পারেন, আপনার ট্যাক্সের টাকায় সরকার ২০ বছরে ৫-৬ বার বোনাস দিয়েছে। কিন্তু, দয়া করে ঢালাও ভাবে বলবেন না। আর যেটুকু দিয়েছে, তাতে ‘আমাদের টাকায় চলে’ ধরনের অধিকার ফলাবেন না দয়া করে। অধিকার ফলাতে চাইলে, আমার দেশের ক্রিকেট, আমাদের ক্রিকেটার হিসেবে ফলাতে পারেন। তাহলে গর্ব থাকে, শান্তি থাকে। সাফল্যের খুশিও বেশি থাকে, কষ্টের তীব্রতাও তাদের সঙ্গে ও সবার সঙ্গে ভাগভাগি করা যায়। ............................. **বাংলাদেশ ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিংয়ের সাত নম্বর দল। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে খেলবে চার দল। আমাদের লক্ষ্য অবশ্যই সেমিফাইনাল। স্বপ্ন চ্যাম্পিয়ন হওয়া। কোনো সমস্যা নেই। কিন্তু লক্ষ্য পূরণ হতেই হবে, এই মনোভাব যদি থাকে, তাহলে মনে রাখা দরকার, র‍্যাঙ্কিংয়ে আমাদের ওপরেও অন্তত দুটি দল থাকবে, যারা সেমিতে উঠতে পারবে না। আমরা যদি সেমিতে উঠতে না পারলে হাহাকার করি, তাদের কি করা উচিত? এটা খেলা এবং ক্রিকেট খেলা। এখানে অনেক কিছুই হয়। সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকা ভালো। **আমাদেরকে সেমিফাইনাল খেলতে হলে আফগানিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে কোনোভাবেই পয়েন্ট হারানো চলবে না। জিততেই হবে। এছাড়া দক্ষিণ আফ্রিকা বা নিউজিল্যান্ডের অন্তত একটিকে হারাতে হবে। তার পর অন্য ম্যাচের সমীকরণ, ভাগ্য, বৃষ্টি, সব মিলিয়ে শেষ চারের সুযোগ আসতে পারে। হ্যাঁ, এই সমীকরণের বাইরেও অনেক কিছু হতে পারে। এখান থেকে ম্যাচ হেরে অন্য দলকে হারিয়ে দিতে পারি। সব ম্যাচ জিততে পারি, সব ম্যাচ হারতে পারি। কিন্তু সাধারণ হিসেবের কথা বলছি। বাংলাদেশের সমীকরণের পাশাপাশি অন্য দলগুলির কথা ভাবি এবার। সব দলই তো কিছু না কিছু করতে এসেছে! বাংলাদেশ এই বিশ্বকাপের এমন দল, যাদেরকে হারানো সব প্রতিপক্ষেরই লক্ষ্য! ভারত, ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়ার মতো দলগুলি হয়তো বাংলাদেশের বিপক্ষে ২ পয়েন্ট নিশ্চিত ধরে নিয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ড জানে, বাংলাদেশের কাছে পয়েন্ট হারানো যাবে না। পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, ওয়েস্ট ইন্ডিজ জানে, বাংলাদেশের বিপক্ষে জয়টা আবশ্যক। আফগানিস্তান একটি ম্যাচ জিততে চাইলেও হয়তো বাংলাদেশকেই টার্গেট করবে। তাহলে? আমরা যেমন কিছু করতে চাই, সব দলই করতে চায়। কিন্তু সব দল তো পারবে না। বেশির ভাগই ব্যর্থ হবে। বিশ্বকাপের মঞ্চে যে কোনো কিছুই হতে পারে। বিশ্বকাপ জয় আমাদের স্বপ্ন। জানি ভীষণ কঠিন। তবু স্বপ্ন দেখি। ইংল্যান্ড, ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার কাছে তো বিশ্বকাপ জয়টাই প্রত্যাশিত! কিন্তু তিন দলই তো জিতবে না। তাহলে? যারা পারবে না, তাদের কি করা উচিত? দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউ জিল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয় অতটা প্রত্যাশিত না হলেও তাদেরও লক্ষ্য শিরোপা। দুই দলই তো পারবে না। তখন? এভাবে যদি ভাবতে পারি, তাহলে খেলাটা খেলাই থাকতে পারে। হ্যাঁ, তার পরও রোমাঞ্চ, উত্তেজনা, নখ কামড়ানো, পিঠ চাপড়ানো, এসব তো থাকবেই। হাসি-কান্না, আনন্দ-হতাশাও আসবে। কিন্তু এভাবে ভাবতে পারলে ক্রিকেট বা এই বিশ্বকাপই দুনিয়ার সবকিছু বা শেষ কিছু মনে হবে না। স্রেফ মনটা খোলা রাখতে হবে। খোলা মনে বিশুদ্ধ হাওয়া বইতে দিতে হবে। তাহলেই উপলব্ধি হবে, এটা বিশ্বকাপ, বিশ্বযুদ্ধ নয়! ছবি - Lifebuoy লিখেছেন - Ariful Islam Roney This post is powered by Anonymous Crew #Tigers #CWC2019 #Day14 #100DaysOfPositivity#SpreadPositivity #PositiveBangladesh