June 23, 2019

বাঙালি সংস্কৃতিতে সাকরাইন

নেপালে এই দিবসটি মাঘি নামে, থাইল্যান্ডে সংক্রান, লাওসে পি মা লাও, মিয়ানমারে থিং ইয়ান কম্বোডিয়ায় মহাসংক্রান, ইন্ডিয়ায় মকরসংক্রান্তি। দক্ষিণ এশিয়ার ও দক্ষিন-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে, বিভিন্ন নামে এই দিবস বা ক্ষণকে ঘিরে উদযাপিত হয় নতুন ফসলের উৎসব। আবশ্যিকভাবেই দেশ ভেদে এর নামের মতোই উৎসবের ধরণেও থাকে পার্থক্য। এই উৎসবের দুটো দিক আছে। একটি ধর্মীয়, অপরটি সাংস্কৃতিক। মূলত নতুন ফসলকে ঘিরেই এই উৎসব 'পৌষ পার্বণ' যেখানে নতুন ধান, খেজুরের গুড় এবং পাটালি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী পিঠা তৈরি করা হয়। ও হ্যাঁ, বাংলাদেশে এর আরেক নাম রয়েছে – সাকরাইন। ঢাকাই ভাষায় ‘হাকরাইন’। পৌষ মাসের শেষদিন বাংলাদেশের পুরান ঢাকায় পৌষসংক্রান্তি বা সাকরাইন সর্বজনীন ঢাকাইয়া উৎসবের রূপ নেয়, যার মূল আকর্ষণ ঘুড়ি উড়ানো। তবে সাকরাইন শুধু ঘুড়ি উড়ানোর উৎসব নয়। এসময় পুরান ঢাকার ঘরে ঘরে চলে মুড়ির মোয়া, ভেজা বাখরখানি আর পিঠা বানানোর ধুম। ঘুড়ি উৎসব নামে পরিচিত এই উৎসব যা পুরান ঢাকার জনপ্রিয় ও দীর্ঘ সাংস্কৃতিক চর্চার ফল। ঢাকার নায়েব, নাজিম ও নবাবেরা ছিলেন এই কৃষ্টি ও সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। ঘুড়ি উড়ানো উৎসব হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায় নবাব আসাফউদ্দৌলার সময় থেকে। নবাবগণ পৃষ্টপোষকতার মাধ্যমে সব সম্প্রদায়ের মানুষের হৃদয় জয় করেছিলেন, যা সর্বজনীন ঐক্য প্রতিষ্ঠায় সমাজে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রেখেছিল। উদ্দেশ্য ছিল হিন্দু-মুসলিম সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা। মুঘল আমল বা তার আগে থেকে এই উৎসব পালিত হয়ে আসছে। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বদৌলতে ঢাকার বিভিন্ন অংশ থেকে মানুষ এখন এই উতসবে অংশগ্রহণ করতে ছুটে আসে। আমাদের সাকরাইন সাধারণত পরপর দুই দিন ধরে উদযাপিত হয়, একদিন খ্রিস্টীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এবং আরেকদিন বঙ্গীয় ক্যালেন্ডার অনুযায়ী। ঘুড়ি ও ফানুস উড়িয়ে ও সন্ধ্যায় আতসবাজির মাধ্যমে এই উদযাপন শেষ করা হয়।
কালের ধারাবহিকতায় উৎসবে অনুসঙ্গের পরিবর্তন এলেও আমেজ ও আবেগটা কিন্তু এখনও প্রজন্মান্তরে রয়ে গেছে ঠিক আগের মতই। বাঙালি সংস্কৃতিতে সাকরাইন এদেশের মানুষের বন্ধুত্ব, ঐক্য, সম্প্রীতি এবং একাত্মতার প্রতীক। ছবি - Rahul Talukder #Shakrain #Day23 #100DaysOfPositivity #SpreadPositivity#PositiveBangladesh