June 23, 2019

সমর্থক হিসেবে আমরা আসলেই পরিণত হচ্ছি তো?

সমর্থক হিসেবে আমরা আসলেই পরিণত হচ্ছি তো? ক্রিকেটবিশ্বে বার্মি আর্মি নামটার সাথে সবাই কমবেশি পরিচিত। এরা হচ্ছে ইংল্যান্ডের কট্টরসমর্থক গোষ্ঠী। দুনিয়ার যে প্রান্তেই ইংল্যান্ডের খেলা হোক না কেন,এরা দলবেঁধে ছুটে যায় দলের হয়ে গলা ফাটানোর জন্য। বিশেষ করে অ্যাশেজে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অজিদের মানসিকভাবে ঘায়েল করতে নিত্যনতুন প্ল্যাকার্ড আর ব্যানার নিয়ে হাজির হয় এরা।তবে ইংল্যান্ড-অজিদের গতানুগতিক সমর্থকরা কিন্তু এর পুরো উল্টো। প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যান বা বোলার ভালো পারফরমেন্স দেখাতে থাকলে হাততালি দিতে এরা কসুর করে না।আর বড় ইনিংস খেললে তো কথাই নেই, দাড়িয়ে সম্মান জানায় পুরো মাঠ।সেটা একটা দেখার মতোই দৃশ্য,আর তাদের এই চেতনার কারণে ক্রিকেটবিশ্ব জুড়ে তাঁরা আলাদা একটা স্থান পেয়েছে। এদের তুলনায় উল্টোপাল্টা কাজ করে বার্মি আর্মি কিছুটা কুখ্যাতই বলা যায়! কিন্তু এই বার্মি আর্মির কিন্তু কোন বদনাম নাই প্রতিপক্ষ দলের বাসে ঢিল ছোঁড়ার,হার নিশ্চিত হয়ে গেলে বোতল ছুঁড়ে মাঠ সয়লাব করে ফেলার।ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাসে যারা ঢিল ছুড়েছিল,সেই অতি উৎসাহী দর্শকেরা হয়তো ছিলেন সংখ্যায় হাতেগোনা,কিন্তু গেইলের একটা টুইটই কিন্তু সারাবিশ্বের কাছে আমাদের পুরো সমর্থকদের ব্যাপারেই নেতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দিয়েছিলো।বাংলাদেশের একটা ম্যাচ হওয়ার পর যদি আপনি আইসিসির অফিশিয়াল টুঁইটার আর ফেসবুক পেজে যান,বাংলাদেশী কতিপয় ফ্যানের (আদৌ তাঁরা ক্রিকেট বোঝে কিনা সেটা যদিও প্রশ্নের দাবি রাখে) ঔদ্ধত্যপূর্ণ কমেন্ট দেখে নিজেই লজ্জা পেয়ে যাবেন। এই জাতীয় অতি আবেগি,হিতাহিত জ্ঞানশুন্য সমর্থকরা যে শুধু বাইরের দেশের দর্শকেরই বিরক্তি উৎপাদন করে চলেছেন তাইনা,খোদ আমাদের জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের অফিশিয়াল ফ্যানপেজে গিয়েও নানারকম আপত্তিকর কমেন্ট করে থাকেন নিয়মিত।নাসিরের বোন,তাসকিনের নববিবাহিত স্ত্রীও বাদ যায়নি তাদের কবল থেকে। এমনকি সাকিবের স্ত্রী শিশিরকে নিয়মিত ধর্মীয় উপদেশ দেয়া থেকে শুরু করে মাশরাফিকে রাজনীতি থেকে দূরে থাকাসহ সব পরামর্শের গুরুদায়িত্ব তারাই কাঁধে তুলে নিয়েছে বলে মনে হয়! এইরকম হিতাহিত জ্ঞানশুন্য কিছু উটকো সমর্থক সব দেশেই থাকে,কিন্তু আমাদের দেশেই এরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ায় সেইসব সাপোর্টারদের আতশ কাঁচ দিয়ে খুঁজে বের করতে হয়,যারা ভালো খারাপ সব মুহুর্তে দলকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে যান!তাই পাবলিক সেন্টিমেন্টকে ধরতে তথাকথিত কিছু ফেসবুক সেলিব্রেটিও সস্তা লাইকের লোভে দশ বারো বছর ধরে দেশকে সার্ভিস দিয়ে যাওয়া ক্রিকেটারদের ছুরি কাঁচির নিচে ফেলতে দ্বিধা করেন না। যদিও আপনাদের বারবার ভুল প্রমাণ করে আপনাদের চোখে ভাতিজা তামিম সেঞ্চুরির পর সেঞ্চুরি করে এই বছর বিশ্বের সেরা ওপেনারদের তালিকায় নিজেকে তুলে এনেছেন,ভায়রাভাই মাহমুদুল্লাহ ডার্ক নাইট হয়ে বারবার তীরে এসে তরী ডোবা থেকে রক্ষা করেছেন দলকে,বাতিলের খাতায় বারবার ফেলে দেয়া মাশরাফি ফিনিক্স পাখির মতো বারবার জেগে ওঠে আগুন ঝরিয়েছেন! মাশরাফিকে দুটো ম্যাচ দিয়ে মুল্যায়ন করার আগে ভেবে দেখুন এই মানুষতাই সুতোর মতো বেঁধে রেখেছেন দলকে গত বিশ্বকাপের আগে থেকে,আর নিজের পারফরম্যান্সে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে ধারাবাহিক বোলারও! মাশরাফি ক্রিকেটারদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে নিষেধ করেছেন অনেক আগেই শুধু এই কারনেই !নাহলে হয়তবা মাঠে আপনাদের নিখাদ আবেগের গর্জন শুনেও লিটন অথবা সৌম্যর মনে যেতে পারে আপনাদের মধ্যে কেউ একজনই ফেসবুকের কমেন্টে হয়তো তাকে “মালু” বলে থাকেন! অথবা তামিমের মনে পড়ে যেতে পারে দুটো ম্যাচে ভালো করলেই যারা তাকে মাথায় তুলে নাচেন,তারাই আবার পরের দু ম্যাচে খারাপ করলে তাকে সমালোচনার কাঠগড়ায় তুলতে কসুর করেন না। অথচ মহেন্দ্র সিং ধোনির ফর্ম যখন খুবই খারাপ যাচ্ছিল,ভারত তাকে ছেঁটে ফ্যালে নি। বরং কোহলি বলেছিলেন,ধোনির মতো একজন অভিজ্ঞ একজনকে তাঁর বিশ্বকাপে চাই ই চাই। ভারতের সমর্থকদের দিক থেকেও যথেষ্ট সমর্থন পাওয়া গেছে। অথচ আমাদের বহু ম্যাচের জয়ের নায়কদের,দলের কঠিন সময়ের সারথীদের মুহুর্তেই ছুঁড়ে ফেলতে আমরা দ্বিধা করি না। আমাদের ফেসবুকের উজবুকদের বিশ্লেষণে মাশরাফি বাদ পড়ে যান,সেই মাশরাফি যাকে ইনজেকশন নিয়ে খেলতে হয় প্রতিটি ম্যাচে, তবুও একটা রান বাঁচানোর জন্য যিনি কঠিন পিচের উপর ঝাঁপিয়ে পড়তে দ্বিধা করেন না। দল হিসেবে বাংলাদেশ সমীহ করার মতো হয়ে উঠছে পরাশক্তিদের কাছেও, একটা বড় শিরোপাও হয়তো খুব কাছেই, কিন্তু সমর্থক হিসেবে সেরার শিরোপা আমরা কবে তুলতে পারবো সেই প্রশ্নের উত্তর দেয়া খুব কঠিন! ছবি - সংগৃহীত লিখেছেন - Abdullah Sadman This post is powered by ISFiT Bangladesh #Tigers #CWC2019 #Day12 #100DaysOfPositivity #SpreadPositivity#PositiveBangladesh