June 23, 2019

সাকিব- আমাদের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একজন!

সাকিব- আমাদের সময়ের চেয়ে এগিয়ে থাকা একজন! ১২০ রানের দারুণ একটি ইনিংস খেলে Shakib Al Hasanযখন ফিরছেন, কার্ডিফের সব দর্শক দাঁড়িয়ে সম্মান জানালো তাঁকে। তিনি কিন্তু একটি বারের মতোও ব্যাট উঁচু করে দর্শক অভিনন্দনের জবাব দিলেন না,শুধু এই জন্যে না যে দলকে বিশাল রান তাড়ার মাঝপথে রেখে ফিরে আসতে হয়েছে, তিনি উদযাপনের ক্ষেত্রে তো বরাবরই নিঃস্পৃহ।এই বিশ্বকাপের ঠিক আগে আগেই যখন তিনি আইপিএলে সানরাইজার্স হায়দারাবাদের হয়ে সুযোগ পাচ্ছিলেন না,তখন অনেকেই প্রশ্ন তুলেছিল তিনি কেন দেশে এসে ঢাকা লীগের ম্যাচ খেলে ওয়ানডে প্রস্তুতি নিচ্ছেন না,তিনি তাঁর বদলে কোন স্টেটমেন্ট দেয়ার প্রয়োজন বোধ করেন নি।বরং তিনি তখন ঢাকা থেকে কোচ সালাউদ্দিনকে উড়িয়ে নিয়ে গিয়ে নিজের মতো করে প্রস্তুতি নিতে ব্যস্ত।পেপারে সবাই জানলো সাকিব ওখানে ঘাম ঝরাচ্ছেন,ওজনও কমিয়ে ফেলেছেন অনেক্তা।পরিবর্তন টা বোঝা গেলো তিনি ঢাকা ফেরার পর।প্রায় ছয় কেজি অজন ঝরিয়ে তিনি যেন সেই দশ বছর আগের তরুণ সাকিব হয়ে গেছেন! তাঁকে ঘিরে শুধু একপেশে প্রশংসার বন্যা বইবে,তা কি হয়! সাকিব তো প্রশংসা আর বিতর্ক দুই মুঠিতে নিয়ে চলেন!  তিনি কেন দলের অফিশিয়াল ফটোসেশনে যোগ না দিয়েই বাড়ি ফিরে গেলেন,এইসব নিয়ে ঝড় উঠলো,খোদ বিসিবি সভাপতি বক্রোক্তি করে বললেন সাকিব ঢাকায় এসেছেন কিনা সেটা তিনি জানেনই না।সেটা জানা তাঁর নিজেরই দায়িত্ব কিনা,এসব প্রশ্ন পাশে ফেলে সাকিব রইলেন বরাবরের মতোই চুপ।জবাবটা যে তিনি পারফরম্যান্সেই দিয়ে এসেছেন সবসময়! হলোও তাই! ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রস্তুতি ম্যাচে আয়ারল্যান্ড উল্ভসের সাথে রীতিমতো উড়ে গেলো বাংলাদেশ দল,ব্যতিক্রম শুধু সাকিব।পুরো দশ ওভার বল করে মাত্র ত্রিশ রান দিয়ে এক উইকেট নিয়ে আর ব্যাটিঙয়ে সবার যাওয়া আসার মিছিলে ৫৪ রান করে তিনি বুঝিয়ে দিলেন,আয়ারল্যান্ডের শীতল হাওয়া তাঁকে কাবু করতে পারেনি! সেই থেকে সাকিবের জয়রথ চলছেই!ত্রিদেশীয় সিরিজে দলের মুকুট জয়ে তো বড় অবদান রেখেছেনই,কিন্তু তিনি যে বিশ্বকাপকেই পাখির চোখ করেছেন,সেটা বোঝা গিয়েছিলো বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের পর দেয়া তাঁর সাক্ষাতকারেই।বলেছিলেন নিজের চতুর্থ বিশ্বকাপে এসে অভিজ্ঞতার প্রতিফলন ঘটাতে চান ব্যাটে ও বলে।দেখাতে চান বাংলাদেশ আসলে কি করতে পারে!  বিশ্বকাপে নিজেকে মেলে ধরতে সাকিবের ব্যগ্র হওয়ার কারণ আসলে গত তিনটি আসরে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পারফর্ম করতে না পারা! আর অলরাউন্ডারের অভিজাত তালিকায় প্রায় এক দশক ধরে তাঁর একচেটিয়া রাজত্ব হলেও বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আসরে নিজেকে মেলে ধরতে না পারাটা যেমন ক্রিকেটবোদ্ধাদের কাছে বিস্ময়ের ব্যাপার হয়ে ছিল,তেমনি সাকিবকেও পুড়িয়েছে অনেক দিন ধরেই!সব আফসোস কাটাবার জন্যেই যে তিনি এসেছেন এই আসরে,সেটা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে তাঁর শরীরী ভাষা আর পারফরম্যান্সে। দলের প্রথম তিন ম্যাচ আর বিশ্বকাপের ২৩ তম ম্যাচ শেষে রান সংগ্রাহকদের তালিকায় সবার উপরে জ্বলজ্বল করছে একটি নাম,সাকিব আল হাসান! প্রথম ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার পেস বোলিং তোপকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে ৭৫ রানের নিখুঁত ইনিংস,সাথে মাকরামের উইকেট নিয়ে দারুণ একটা ব্রেক থ্রু এনে দেয়া,ম্যান অব দ্য ম্যাচে তাঁর কোন বিকল্প ছিল না।দ্বিতীয় ম্যাচেও ৬৪ রান করে সর্বোচ্চ রান সংগ্রহকারী সাথে গাপটিল আর মুনরোর উইকেট নিয়ে উড়ন্ত কিউইদের খানিকক্ষণের জন্যে মাটিতে নামিয়ে এনেছিলেন,কে জানে মুশফিক সেই শিশুতোষ ভুল না করলে হয়তো ফলাফল অন্যরকমও হতে পারতো।এতো সাফল্যের মাঝেও একটা অপুর্নতা তো ছিলোই,যেটা পুরো ক্যারিয়ারেই তিনি বয়ে বেরিয়েছেন বলা যায়!সেটা হল তিন অঙ্কের দিকে গিয়েও বারবার ষাট সত্তরের ঘরে গিয়ে ফিরে আসা।৪৫ টি হাফ সেঞ্চুরির পাশে মাত্র সাতটি সেঞ্চুরি সেই সাক্ষ্যই দেয়! বিশ্বকাপের মঞ্চে দারুণ সেঞ্চুরি করে সাকিব আপাতত সে প্রশ্নকে দমিয়ে দিলেন। এই দমিয়ে দেয়া,চারপাশ ঘিরে জমতে থাকা শত চাপ আর প্রশ্নকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে ফেলার এই স্বভাবই সাকিবকে রেখেছে সেরাদের কাতারে সবসময়!দল যখনই বিপদে পড়েছে,নীরবে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এসেছেন তিনি!সতীর্থরা তো গর্ব করে এমনিতেই বলেন না,সাকিবকে দলে পাওয়া মানে একজন খেলোয়াড়ের বদলে দুজন খেলোয়াড় পাওয়া! দুর্নীতি আর জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারে সবসময় বিশ্বের কাছে উপহাসের পাত্র হয়ে থাকা এই দেশকে তিনিই প্রথম বিশ্বাস করতে শিখিয়েছেন,নিজের সামর্থ্য আর জেদের মিশেলে ভালো কিছুতেও এই গ্রহে সেরা হয়ে থাকা সম্ভব! নেতিবাচকতা আর পরচর্চায় ডুবে থাকা আমাদের এই প্রজন্মের মাঝে দশকে-দু দশকে একটা সাকিব তো জন্ম নিক!  আমরা জানিনা এ আশা পূরণ হবে কিনা, কারণ সাকিব লাখে কোটিতে একজনই,সাকিব তো আমাদের এই সময়ের চেয়ে অনেক অগ্রসর একজন মানুষ! সাকিব তো বরাবরই আমাদের ভুল প্রমাণ করেন।ক্রিকেট বোর্ডের হর্তাকর্তা থেকে শুরু করে ফেসবুকে তাঁকে ধুয়ে দেয়া আমজনতা সবাইকে তিনি জবাব দেন নিজের ক্রিকেটীয় দক্ষতায়!এখনো ভুল আবেগ নিয়ে বসে থাকা আমাদের সাকিব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেন,কেমন করে নিজের জায়গা থেকে দেশকে সবটুকু উজাড় করে দেয়া সম্ভব! ছবি - Bangladesh Cricket : The Tigers লিখেছেন - Abdullah Sadman This post is powered by The Hippycrites #SAH75 #Tigers #CWC2019 #Day13#100DaysOfPositivity #SpreadPositivity#PositiveBangladesh