May 24, 2019

ঐতিহাসিক দিন

আজ আমাদের জীবনের একটা ঐতিহাসিক দিন।

আজ ৫মে,২০১৯ আমি ও মানসী সাহা বাংলাদেশের নারীদের ইতিহাসে প্রথমবারের মত মোটরসাইকেল নিয়ে বাংলাদেশের ৬৪ জেলা ভ্রমণ সম্পন্ন করলাম।

খুব ইমোশনাল লাগছে।সেই যে ৬ এপ্রিল,২০১৭ যে যাত্রার শুরু তা আজ সমাপ্ত হল। 

আর হয়ত জেলায় জেলায় স্কুটি হাঁকিয়ে যাওয়া হবে না।আর হয়ত প্রতি জেলার স্কুলে যেয়ে মেয়েদের সাথে কথা হবে না।এলোমেলো বাতাসে সবুজ আর সবুজ বাংলাদেশের সৌন্দর্য এভাবে উপভোগ করা হবে না।

১৩,০০০ কিমি চালিয়েছি আমরা।প্রত্যেক জেলার কত হাজার হাজার স্মৃতি।ঝিরিপথ দিয়ে বাইক চালানো, পাহাড়ি আকাবাঁকা পথে স্কুটি উঠায়ে পাহাড় থেকে নামার সময় দম বন্ধ করে রাখা,এই বুঝি এখানেই জীবন শেষ।স্কুলে মেয়েদের সাথে আত্মরক্ষার ওয়ার্কশপ,স্বাস্থ্য সচেতনতা নিয়ে কথা বলার পর আমাদের বাইকে উঠার জন্য তাদের মারামারি,বালিময় রাস্তা দিয়ে আল্লাহ আল্লাহ জপ করতে করতে যাওয়া,৯০ কিমি স্পিডে চালানোর সময় হুট করে স্পিড ব্রেকার,দক্ষিণাঞ্চলের কিছু জায়গায় নৌকায় বাইক উঠানো,প্রত্যেক জেলার এত্ত এত্ত মানুষের ভালবাসা,দাওয়াত করে খাওয়ানো,পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা লিখলেও অভিজ্ঞতা শেষ হবে না।

প্রথমেই ধন্যবাদ পিলিয়নদের।।এরাই প্রথম থেকেই অনভিজ্ঞ ড্রাইভারদের পিছনে জীবনের রিস্ক নিয়ে বসে আমাদের অভিজ্ঞ করে তুলেছে।নিজের জীবন বাজি রেখে চলেছে।ধন্যবাদ সুমু- আমার প্রথম পিলিয়ন,সিলভি-দীর্ঘ সময়ের পিলিয়ন,আছমা-যে নির্ভয় হতে শিখিয়েছে,শুভা,শান্তা,নিঝুম,অর্থি,রিজভি,টুম্পা-যে বিদেশ বসে সব ম্যানেজ করে,প্রিয়া,মুক্তাসহ সবাই।

ধন্যবাদ দিতে চাই -কর্ণফুলী অটোমোবাইলস লিমিটেড এর কাছে।তারা এই দুই মেয়ের মুখে কি দেখেছিল কে জানে।আমাদের ৫-৬ বছর ধরে লালিত স্বপ্নের প্রথম স্টেপ ছিল তাদের স্কুটি।স্কুটি নাহয় হল,বিভিন্ন জেলার থাকা,যাতায়াত,খাওয়া-দাওয়ার খরচ?

স্টুডেন্ট ছিলাম তখন আমরা।টিউশনি করে টাকা জমাতাম।আর ফাঁক পেলেই বাইক নিয়ে লুপ প্ল্যান করে দৌড়।লাস্টের দিকে ২৯ জেলায় অকটেনের খরচ দিল স্কোয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। প্রতি জেলায় যেয়ে দাওয়াত ই খেতাম আমরা।কোনদিন দাওয়াত কে না বলিনি।প্রায় ৪০টার মত জেলার থাকার ব্যবস্থা করে দিলেন নুরুন আখতার আপু।জালাল আহমেদ স্যার, অঞ্জন দা, কামরুল স্যার, রেদোয়ান ভাই,সাজু ভাই,রানা ভাই,হোটেল প্রাইম পার্কসহ কত্তজন নিজ গরজে আমাদের যে সহযোগিতা করেছেন ইয়ত্তা নাই।প্রতিজেলার সাংবাদিকদেরও ধন্যবাদ। 

প্রতি জেলায় কত্ত মানুষের সাথে যে দেখা হয়েছে,কত সংগঠনের সাথে,তাদের সাথে আড্ডা,ঘোরাঘুরি,কতভাবে কতরকম সম্মাননা।

জীবনের এচিভমেন্ট কি?
হয়তবা হাজার হাজার মেয়ের মুখে ভ্রমণকন্যা শুনাটা।
হয়তবা আমার লেইম জোক্স শুনে তাদের খিলখিল হাসি।
হয়তবা বাংলাদেশের প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে যাওয়াটা।
হয়তবা বাংলাদেশের হাজার মানুষের ভালবাসা।”

– লিখেছেন Sakia Haque

This post is powered by Street Dancers (Bangladesh)

#SpreadPositivity #PositiveBangladesh#WeArePositiveBangladesh